আচার্য চাণক্য বলেছেন, যে আপনার সামনে মিষ্টি কথা বলে এবং পিছনে আপনার বদনাম করে, সেরকম লোকদের থেকে দশ হাত দূরে থাকা উচিৎ। কারন তারা হল একটি বোতলে থাকা বিশ এইরকম লোকেরা আপনার সামনে মধুর হাড়ি রাখলেও পিছন থেকে ছুরির আঘাত হানতে পারে। তারা পিছনে বদনাম করবে এবং সবার কাছে আপনার ইমেজ ডাউন করার চেষ্টা করবে। এছাড়া বিশ্বাসঘাতকতা করার কথা না হয় বাদই গেল। তাই সে রকম বন্ধুর থেকে সবসময় দূরে থাকুন তাদের সাথে বন্ধুত্ব না রাখাই ভালো। কারন তাহলে তারা আপনার সাথে কথা বলার সুযোগ পাবেনা এবং আপনার বদনাম করতে পারবে না।
“ভয় যতক্ষণ না আসে; ততক্ষণই ভয়কে ভয় করা উচিত।যদি শেষ পর্যন্ত ভয় এসে যায় তাহলে তার যথাযথ প্রতিকার করা কর্তব্য।”
ব্যখ্যা: আমরা অব্যশ্যই বিভিন্ন বিপদ সম্পর্কে আগে থেকে যথেষ্ট সতর্কতা অলম্বন করব। যাতে মূল্যবান দ্রব্যগুলির যথাযথ সংরক্ষণ করা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা দরকার। চেবারের ভয়ে সতর্ক হব একথা ঠিক, কিন্তু বাড়িতে এবকার চুরি হয়ে গেলে তখন অযথা চোরের ভয়ে সন্ত্রস্ত থেকে কোন লাভ নেই। তখন এই ঘটনার উপর্যক্ত প্রতিবিধান করা দরকার অর্থ্যাৎ কীভাবে চোরকে ধরা যেতে পারে, সেদিকে নজর রাখা দরকার।
“সন্তানদের উপহার না দিলে সে হয়তো কিছুক্ষণ কাঁদবে,কিন্তু সংস্কার না দিলে সারাজীবন কাঁদবে। ”
শত্রু সম্বন্ধে চাণক্য নীতিকথা
আচার্য চাণক্য বলেছেন:
মানবজীবনে যতজন মিত্র আছে তার থেকে কয়েক গুণ বেশি শত্রুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়।
চাণক্য পন্ডিত এটি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন কয়েক হাজার বছর আগেই।
- দুর্জন বিদ্বান হলেও যেকোনো মূল্যে তাকে এড়িয়ে চলা কর্তব্য। মনিভূষিত বিষাক্ত সর্প কি অধিক ভয়ঙ্কর নয়?
- অগ্নি, শত্রু এবং রোগব্যাধি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা উচিত, অন্যথায় তা বাড়তেই থাকবে।
- নখযুক্ত প্রাণী, নদী, শিংওয়ালা জন্তু, অস্ত্রধারী ব্যক্তি, নারী অথবা রাজনীতিবিদকে কখনোই বিশ্বাস করতে নেই।
- দু’ধরনের হিংসুক প্রাণী আছে; যথা: সাপ এবং সাপের ন্যায় ক্রূর স্বভাববিশিষ্ট মানুষ। এই দুইয়ের মধ্যে সাপের মত ক্রূর স্বভাববিশিষ্ট মানুষ অধিক ভয়ানক। কারণ মন্ত্রের দ্বারা সাপকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও ক্রূর স্বভাবের মানুষকে বশীভূত করা যায় না।
- সকলের সাথে সম ব্যবহার করা চলে না, শট এর সাথে শাঠ্যতা, খড়ের সাথে অহংকারে মনোভাব, নারীর সাথে ছলনা, সাধু জনের সাথে সম্প্রীতি, বিদ্বান এর সাথে সারল্য, শত্রুর সাথে বীরত্ব, আপনজনকে দাক্ষিণ্য গুরুজনকে ক্ষমা এবং পরজনকে দয়া করা কাম্য। এরূপ ব্যবহারে মানুষ সংসারে উন্নতি করতে পারে।
- চাণক্য নীতি শাস্ত্র এর মধ্যে অন্যতম একটি বাণী -সর্পের দন্তে যেমন বিষ থাকে, মাছির মুখে বিষ থাকে, বৃশ্চিকের বিষ থাকে তার লেজে কিন্তু দুষ্টু লোকের সারা দেহে বিষ থাকে, তাই সে বিষধর। সেজন্য সর্বদা দুষ্টু ব্যক্তির সঙ্গ ত্যাগ করা উচিত।
- যার স্ত্রী অসতী, বন্ধু প্রতারক এবং ভৃত্য অবাধ্য , গৃহে তার সাপের বাস, অতএব মৃত্যু তার অনিবার্য।
- দয়ার জবাব দয়ায়, আক্রমণের জবাব প্রতিআক্রমণের দ্বারা দিলে তাতে কোন দোষ থাকে না। প্রতারকের সাথে ব্যবহারে প্রতারণার আশ্রয় অবশ্যই নিতে হবে।
- ব্রাহ্মন ভোজনের দ্বারা তুষ্ট হয়, ময়ূর মেঘ গর্জনে আনন্দে নিত্য করে। সজ্জন ব্যক্তি পরের সুখে সুখী হয়। কিন্তু দুষ্টু বা অসৎ ব্যক্তি পরের দুঃখে ও বিপদে আনন্দ লাভ করে।
- শত্রুর প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করবেন না। তাকে সর্বদা বিপজ্জনক মনে করুন।
- দুধ পান করার ফলে সাপের শুধু বিষই বৃদ্ধি পায়। তেমনই মূর্খকে সদুপদেশ দান করলে তারা ক্রুদ্ধ হয়। মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে পারে না।
- স্বভাবত কেউই আমাদের বন্ধু বা শত্রু নয়। একমাত্র কাজের দ্বারাই মানুষ আমাদের বন্ধু বা শত্রু বলে পরিগণিত হয়।